লুঙ্গি বাংলাদেশীদের জন্য আরাম দায়ক পোষাক।
লুঙ্গি দেহের কোমর থেকে পা পর্যন্ত পরার একধরনের আরাম দায়ক পোষাক।
ভারত,
বাংলাদেশ,
শ্রীলংকা এবং
মায়ানমারে এর প্রচলন দেখা যায়।মায়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রধান পোষাক হিসাবে বিবেচিত হয়।এছাড়া ইন্দোনেশিয়াতেও এর প্রচলন দেখা যায়।
লুঙ্গি অথবা লোঙ্গাই
মায়ানমারের জাতীয় পোষাক হিসেবে স্বীকৃত।
লুঙ্গির উৎপত্তিঃ
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গনতান্ত্রিক দেশ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ু।ভারতের ২৮টি অংগ রাজ্যের একটি অন্যতম রাজ্য। ভেস্তি নামক এক ধরনের পোষাককে আদিপিতা বলে মনে করা হয়।কথিত আছে যে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের জেলেদের হাত ধরেই এই পোশাকের উথথান ঘটে।
বাংলাদেশের প্রধান পোষাক লুঙ্গিঃ
বাংলাদেশের আপামর জনগনের প্রধান পোশাক হচ্ছে এই লুঙ্গি।সকল সম্প্রদায়ের লোকের মাঝে বিশেষ করে পরুষ মানুষের প্রতিদিন ব্যাবহারের পোশাক হচ্ছে এটি।বিভিন্ন উৎসব বিশেষ করে ঈদ,বাংলা নববর্ষ পালন এমনিকি বিয়ে শাদীতেও এই পোষাক উপহার দেওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে।যদিও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপজাতীয় মহিলারা লুঙ্গির মত দেখতে
একই রকম একটি পোষাক পরিধান করেন, তবে বাঙালি মহিলারা লুঙ্গি পরিধান করেন
না। বাংলাদেশে ধীরে ধীরে লুঙ্গির ব্যবহার কমে আসছে, কিন্তু তা এখনও বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষের পরিচ্ছেদ এই পোষাক বিশেষ করে আরামদায়ক সাদা
পিওর কটন লুঙ্গি সবার পছন্দের।
দক্ষিন ভারতের লুঙ্গিঃ
কেরালায়
লুঙ্গি পুরুষ ও মহিলা উভয়েই পরে থাকেন। এই পোষাককে সাধারনতঃ
দিনমজুরদের পোশাক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে লুঙ্গি সাধারণতঃ রঙ্গিন
এবং বিভিন্ন নকশা করা থাকে। সাদা রঙের নকশা ছাড়া লুঙ্গির সংস্করণকে
মুন্ডু নামে ডাকা হয়। কোন অনুষ্ঠানের (যেমনঃ বিয়ে) ক্ষেত্রে, মুন্ডুতে কখনো কখনো সোনালি সুতায় এমব্রয়ডারি করা থাকে যা
কাসাভু নামে পরিচিত। লুঙ্গি সাধারণতঃ বিয়ে বা অন্য কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরা হয় না। জাফরান রঙের মুন্ডু
কাভি মুন্ডু নামে পরিচিত।
কেরালায় (ভারতের) অধিবাসীরা সাধারণতঃ তাদের এই পোষাক গুটিয়ে
পরেন। কাপড়ের নিচের অংশ ভাজ করে গুটিয়ে তুলে আবার কোমরে বাঁধা হয়। এভাবে
পরলে মুন্ডু বা লুঙ্গি দিয়ে কোমর থেকে হাটু পর্যন্ত ঢাকা থাকে। এ ধরনের
কাপড় পরা অনেকটা ভাঁজ ছাড়া স্কটল্যান্ডের স্থানীয় ঘাগড়ার মত দেখা যায়।
মায়ানমারের জাতীয় পোষাক লুঙ্গিঃ
মায়ানমারে
বার্মিজ ভাষায় লুঙ্গিকে লোঙ্গাই বলে ডাকা হয়। পুরুষের জন্য এটি ঘর থেকে
কাজে জীবনের সর্বত্রই ব্যবহৃত হয়। সাধারণতঃ শুধু সৈনিকগণ পায়জামা পরেন
এবং যে সকল যুবক পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় মত্ত তারা বাড়িতে লোঙ্গাই পরে
থাকেন। মহিলাদের জন্য এটি তামাইন (htamain) হিসেবে পরিচিত, যা খুবই
জনপ্রিয়। বিভিন্ন সুতায় বোনা যেমন সুতি এবং সিল্কের লুঙ্গি বিভিন্ন
আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক সময়ে পরিধান করা হয়।
সোমালিয়ায় ব্যবহ্রত লুঙ্গিঃ
সোমালিয়ায় মা' আউইস এর
হুস গুনতি পুরুষদের পরিধেয়। এটি বয়োজ্জ্যেষ্ঠ পুরুষই বেশি পরে থাকেন যারা সাথে
কুফি বারাওয়ে
পরেন, এটি সাধারণতঃ অনেক সোমালীয় পরিধান করেন যখন বাড়ীতে অবসর সময়
কাটান। এ পোষাকের ঐতিহ্যবাহী রঙ হচ্ছে সাদা নকশা ছাড়া, কিন্তু এশিয়ার
প্রভাবে এবং সোমালিয়া মসলা রপ্তানীর পথিমধ্যে হওয়ায় এশিয়া বণিকদের
ব্যবহৃত রঙ্গিন লুঙ্গির সাথে এ দেশের মানুষের পরিচয় ঘটে।